কুরআনের আলোকে সালাতের গুরুত্ব বর্ণনা কর। [Describe the importance of Salah in the light of the Holy Quran.] জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা-২০১৪ [অনুষ্ঠিত হয়েছে-২০১৬]
উত্তর:
কুরআন হচ্ছে আল্লাহর কালাম। দ্বীন ও শরীয়তের মূল উৎস। আসমানী শিক্ষা ও হেদায়েতের প্রধান স্তম্ভ। আমাদের সবার কর্তব্য, প্রতিদিন অল্প অল্প করে হলেও কুরআন তিলাওয়াত করা এবং এর শিক্ষা ও হেদায়েত দ্বারা জীবনকে আলোকিত করা।
আমরা যদি এ
আলোকগ্রন্থ তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন করি, তাহলে
পরিষ্কার দেখতে পাব, ঈমানের
পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হচ্ছে নামায। আল্লাহ তাঁর পবিত্র কালামে বিভিন্নভাবে
নামাযের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিচিত্ররূপে নামাযের প্রতি আহ্বান করেছেন।
এখানে আমরা কিছু দিক সম্পর্কে আলোচনা করব।
কুরআনের আলোকে সালাতের গুরুত্ব
কোনো বিষয়ে
গুরুত্বারোপের একটি সহজ-সরল পদ্ধতি হল সে বিষয়টির আদেশ করা। নামাযের উপর
গুরুত্বারোপের জন্য এ পদ্ধতিটি কুরআনে অনেক ব্যবহার করা হয়েছে। কুরআনে নামাযের
সুস্পষ্ট আদেশ করা হয়েছে এবং বারবার বিভিন্নভাবে করা হয়েছে।
যেমন আল্লাহ বলেন-
وَاَقِیْمُوا
الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ وَارْكَعُوْا مَعَ الرّٰكِعِیْنَ
এবং তোমরা নামায
কায়েম কর, যাকাত
আদায় কর এবং রুকূকারীদের সঙ্গে রুকূ কর।-সূরা বাকারা (২) : ৪৩
অন্যত্র বলেছেন-
وَجَاهِدُوْا فِی
اللهِ حَقَّ جِهَادِهٖ هُوَ اجْتَبٰىكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَیْكُمْ فِی الدِّیْنِ
مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ اَبِیْكُمْ اِبْرٰهِیْمَ هُوَ سَمّٰىكُمُ
الْمُسْلِمِیْنَ مِنْ قَبْلُ وَفِیْ هٰذَا لِیَكُوْنَ الرَّسُوْلُ شَهِیْدًا
عَلَیْكُمْ وَتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ فَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ
وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ وَاعْتَصِمُوْا بِاللهِ هُوَ مَوْلٰىكُمْ فَنِعْمَ
الْمَوْلٰی وَنِعْمَ النَّصِیْرُ.
এবং তোমরা আল্লাহর
পথে সাধনা কর, যেমন
সাধনা করা উচিত। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি
কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। তোমাদের পিতা ইবরাহীমের দ্বীন (-কে আঁকড়ে ধর)। তিনিই
তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলিম, পূর্বেও
এবং এ কিতাবেও, যাতে
রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হয় আর তোমরা (অন্যান্য) মানুষের জন্য সাক্ষী হও। সুতরাং
তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত
আদায় কর এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে ধর। তিনিই তোমাদের অভিভাবক। তিনি কত উত্তম অভিভাবক
এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।-সূরা হজ্ব (২২) : ৭৮
এ আয়াতে আল্লাহ
তাআলা এই উম্মতকে (উম্মতে মুহাম্মাদী) সাক্ষী সাব্যস্ত করেছেন। কিয়ামতের দিন যখন
অন্য উম্মতেরা অস্বীকার করে বলবে যে, নবীগণ
আমাদের নিকট দ্বীনের কথা পৌঁছাননি তখন উম্মতে মুহাম্মাদী নবীদের পক্ষে সাক্ষ্য
দেবে-নিশ্চয় নবীগণ দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। বলাবাহুল্য, উম্মতে
মুহাম্মাদীর উপর এটা আল্লাহর বড় নিআমত। এ নিআমতের শোকরিয়া স্বরূপ আল্লাহ তাদেরকে
নামায কায়েম করা, যাকাত
আদায় করা এবং তাঁকে মজবুতভাবে ধরার আদেশ করেছেন।
এ থেকে নামাযের
বিশেষ গুরুত্ব যেমন প্রমাণিত হয়, তেমনি
এও বোঝা যায়, এই
নিআমতের শুধু মৌখিক শোকরিয়া আদায় করা যথেষ্ট নয়; বরং
আমলগতভাবেও শোকরিয়া আদায় করতে হবে। যে সকল আমল দ্বারা এ নিআমতের শোকরিয়া আদায় করা
যায় তার শীর্ষে রয়েছে নামায, যাকাতসহ
সর্বক্ষেত্রে আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা।
অপর আয়াতে নবীজীকে
লক্ষ করে বলেছেন-
قُلْ لِّعِبَادِیَ
الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یُقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَیُنْفِقُوْا مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ
سِرًّا وَّعَلَانِیَةً مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ یَوْمٌ لَّا بَیْعٌ فِیْهِ
وَلَا خِلٰلٌ.
আমার যে বান্দাগণ
ঈমান এনেছে তুমি তাদেরকে বল, তারা
যেন নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা
থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে খরচ করে, সেই
দিন আসার আগে, যে
দিন কোনো বেচাকেনা থাকবে না এবং বন্ধুত্বও থাকবে না।-সূরা ইবরাহীম (১৪) : ৩১
এখানে আল্লাহ তাআলা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদেরকে নামাযের আদেশ করেছেন।
এ থেকে বোঝা যায় নামায অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কিয়ামতের কঠিন সময়ে তা উপকারে
আসবে।
অন্যত্র আল্লাহ
সরাসরি নবীজীকে নামাযের আদেশ করেছেন-
اَقِمِ الصَّلٰوةَ
لِدُلُوْكِ الشَّمْسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیْلِ وَقُرْاٰنَ الْفَجْرِ اِنَّ
قُرْاٰنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا.
তুমি সূর্য হেলার
সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম কর এবং ফজরের নামায (কায়েম কর)।
নিশ্চয় ফজরের নামাযে সমাবেশ ঘটে।-সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৭৮
সূর্য হেলার পর থেকে
রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম দ্বারা কোন্ কোন্ নামায বুঝানো হয়েছে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও সীরাতে এর স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে। তা হল, যোহর, আসর, মাগরিব
ও এশার নামায। আর ফজরের নামাযকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা
এর বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব নির্দেশ করে। এর বিশেষত্বের একটি দিক হল এ সময়ে
ফিরিশতাদের সমাবেশ ঘটে থাকে।
নবীজীকে নামাযের
আদেশ করে আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন-
وَاَقِمِ الصَّلٰوةَ
طَرَفَیِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ الَّیْلِ اِنَّ الْحَسَنٰتِ یُذْهِبْنَ
السَّیِّاٰتِ ذٰلِكَ ذِكْرٰی لِلذّٰكِرِیْنَ.
এবং তুমি নামায
কায়েম কর দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের কিছু অংশে। নিশ্চয় নেক আমলসমূহ মন্দ
কর্মগুলোকে দূর করে দেয়। স্মরণকারীদের জন্য এ একটি স্মারক।–সূরা
হূদ (১১) : ১১৪
দিনের দুই প্রান্তে
ও রাতের কিছু অংশে নামায কায়েম দ্বারা ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব
ও এশার নামায বুঝানো হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও
সুন্নাহ্য় এর পরিষ্কার বিবরণ রয়েছে।
আমরা লক্ষ করেছি
এখানে নামাযের আদেশ করা হয়েছে, সেইসঙ্গে
বলা হয়েছে, পুণ্য
পাপকে দূর করে দেয়। এ থেকে বোঝা যায় নামায খুব মর্যাদাপূর্ণ আমল এবং এর দ্বারা
গোনাহ মাফ হবে।
নবীজীকে লক্ষ করে
আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেছেন-
اُتْلُ مَاۤ
اُوْحِیَ اِلَیْكَ مِنَ الْكِتٰبِ وَاَقِمِ الصَّلٰوةَ اِنَّ الصَّلٰوةَ تَنْهٰی
عَنِ الْفَحْشَآءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللهِ اَكْبَرُ وَاللهُ
یَعْلَمُ مَا تَصْنَعُوْنَ.
ওহীর মাধ্যমে তোমার
প্রতি যে কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা
তিলাওয়াত কর ও নামায কায়েম কর। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে
আর আল্লাহর যিকিরই সবচেয়ে বড়। তোমরা যা কর, আল্লাহ
তা জানেন।-সূরা আনকাবুত (২৯) : ৪৫
এখানেও নামাযের আদেশ
করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে এর কিছু উপকারিতাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তা
অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। হাঁ, নামাযের
বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তা
অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে। তবে প্রাণবন্ত নামায হতে হবে। যেরূপ নামাযের
কথা কুরআন ও হাদীস বলে।
কুরআন হুকুম-আহকাম
আলোচনার ক্ষেত্রে সাধারণত পুঃলিঙ্গের সম্বোধন করে। দ্বিমত নেই যে, পুরুষের
মত মহিলারাও এসব আদেশ-নিষেধের আওতাভুক্ত। কুরআনে এক স্থানে নবীপত্নীদের বিশেষভাবে
সম্বোধন করে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাতে নামাযের আদেশও রয়েছে।
যেমন আল্লাহ বলেন-
یٰنِسَآءَ
النَّبِیِّ لَسْتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ اِنِ اتَّقَیْتُنَّ فَلَا
تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَیَطْمَعَ الَّذِیْ فِیْ قَلْبِهٖ مَرَضٌ وَّقُلْنَ
قَوْلًا مَّعْرُوْفًا وَقَرْنَ فِیْ بُیُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ
الْجَاهِلِیَّةِ الْاُوْلٰی وَاَقِمْنَ الصَّلٰوةَ وَ اٰتِیْنَ الزَّكٰوةَ
وَاَطِعْنَ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ اِنَّمَا یُرِیْدُ اللهُ لِیُذْهِبَ
عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَیْتِ وَیُطَهِّرَكُمْ تَطْهِیْرًا.
হে নবী পত্নীগণ, তোমরা
সাধারণ কোনো নারীর মত নও যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। তোমরা কোমলভাবে কথা বলো না, অন্যথায়
যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে লালসায় পড়বে আর তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বল। এবং তোমাদের
ঘরে অবস্থান কর। প্রাচীন জাহিলিয়াতের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িও না এবং
নামায কায়েম কর। যাকাত আদায় কর। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। হে নবী পরিবার!
আল্লাহ তো চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে উত্তমভাবে পবিত্র
করতে।-সূরা আহযাব (৩৩) : ৩২-৩৩
নামাযের আদেশ
সম্পর্কিত আরো আয়াতের জন্য দেখুন, সূরা
বাকারা ১১০, সূরা
আনআম ৭২, সূরা
নূর ৫৬, সূরা
রূম ৩১, সূরা
মুজাদালা ১৩
আদেশমাত্রই গুরুত্বপূর্ণ।
আদেশকারীর মর্যাদা এবং আদেশের ধরন ও অবস্থা অনুপাতে গুরুত্ব আরো বেশি হয়। আদেশকারী
যত বড় হয় আদেশ তত বেশি গুরুত্ব বহন করে। এমনিভাবে যখন বারবার ও বিভিন্নভাবে আদেশ
করা হয় তখনো আদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। নামাযের আদেশ যেহেতু স্বয়ং আল্লাহ করেছেন
যিনি সবচেয়ে বড় এবং বিভিন্নরূপে করেছেন, সরাসরি
বান্দাদের করেছেন, নবীর
মাধ্যমে করেছেন, সরাসরি
নবীকে করেছেন, নবীপত্নীদের
করেছেন, তাই
নামাযের মর্যাদা ও গুরুত্ব বেশি।
পূর্ববর্তী
নবীদের প্রতি নামাযের নির্দেশ
কিছু বিষয় আছে, যেগুলোর
নির্দেশ আল্লাহ তাআলা আমাদের নবীর মত পূর্ববর্তী নবীগণকেও দিয়েছেন। কুরআনের
মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, নামাযও
ওসব বিষয়ের অন্যতম, যার
বিধান আল্লাহ অন্যান্য নবীদেরকেও দান করেছেন (যদিও নামাযের সংখ্যা ও বিস্তারিত
পদ্ধতি এক রকম ছিল না)।
আল্লাহ তাআলা
ইবরাহীম আ., ইসহাক
আ., ইয়াকুব
আ.-এর আলোচনা করে বলেন-
وَجَعَلْنٰهُمْ
اَىِٕمَّةً یَّهْدُوْنَ بِاَمْرِنَا وَاَوْحَیْنَاۤ اِلَیْهِمْ فِعْلَ الْخَیْرٰتِ
وَاِقَامَ الصَّلٰوةِ وَاِیْتَآءَ الزَّكٰوةِ وَكَانُوْا لَنَا عٰبِدِیْنَ.
আমি তাদের
বানিয়েছিলাম নেতা, যারা
আমার নির্দেশে (মানুষকে) পথপ্রদর্শন করত। আমি ওহীর মাধ্যমে তাদেরকে নির্দেশ
দিয়েছিলাম সৎকর্ম করতে, নামায
কায়েম করতে এবং যাকাত আদায় করতে। আর তারা আমারই ইবাদতকারী ছিল।-সূরা আম্বিয়া (২১)
: ৭৩
মারইয়াম আলাইহাস
সালাম যখন সদ্যপ্রসূত শিশুকে নিয়ে নিজ স¤প্রদায়ের
কাছে এলেন তখন তারা তাঁর প্রতি অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করল এবং ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও
কটাক্ষ করতে লাগল। তিনি ইশারায় তাদের জানালেন তারা যেন শিশুটিকেই জিজ্ঞাসা করে, কীভাবে
তার জন্ম হয়েছে। তখন তারা বলল, আমরা
দোলনার শিশুর সাথে কীভাবে কথা বলব? এমন
সময় আল্লাহ শিশুটির যবান খুলে দিলেন। দোলনার শিশু ঈসা মাসীহ বলতে শুরু করলেন-
اِنِّیْ عَبْدُ
اللهِ اٰتٰىنِیَ الْكِتٰبَ وَجَعَلَنِیْ نَبِیًّا وَّجَعَلَنِیْ مُبٰرَكًا اَیْنَ
مَا كُنْتُ ۪ وَاَوْصٰنِیْ بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ مَا دُمْتُ حَیًّا
وَّبَرًّۢا بِوَالِدَتِیْ وَلَمْ یَجْعَلْنِیْ جَبَّارًا شَقِیّا
وَالسَّلٰمُ عَلَیَّ یَوْمَ وُلِدْتُّ وَیَوْمَ اَمُوْتُ وَیَوْمَ اُبْعَثُ حَیًّا.
আমি আল্লাহর বান্দা।
তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী বানিয়েছেন আর তিনি আমাকে করেছেন বরকতময় আমি
যেখানেই থাকি এবং আমাকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন আমি জীবিত থাকি।
এবং আমাকে করেছেন আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহারকারী। আমাকে করেননি উদ্ধত ও হতভাগা।
আর আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন
আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন আমি জীবিত হয়ে পুনরুত্থিত হব।-সূরা মারইয়াম (১৯) :
৩০-৩৩
এখান থেকে এটা যেমন
জানা গেল যে, ঈসা
আলাইহিস সালামের প্রতি নামাযের নির্দেশ ছিল, তেমনি
এও বোঝা গেল যে, নামায
অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই তো দোলনার শিশুর যবান দিয়ে আল্লাহ যে কটি কথা
বলিয়েছেন তাতে নামায স্থান পেয়েছে। ঈসা মাসীহের এ বাণী থেকে আরো জানা গেল, যতদিন
হায়াত থাকবে ততদিন পর্যন্ত নামায পড়তে হবে।
মূসা আলাইহিস সালাম
মাদইয়ান থেকে সপরিবারে মিসরের উদ্দেশে রওনা হলেন। পথে আগুন দেখতে পেয়ে তিনি কাছে
এলেন। আসলে এটা জাগতিক আগুন ছিল না। এটা ছিল আল্লাহর নূর। কাছে আসার পর আল্লাহ
তাঁকে ডেকে বললেন-
اِنِّیْۤ اَنَا
رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَیْكَ اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًی
وَاَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا یُوْحٰی اِنَّنِیْۤ اَنَا اللهُ لَاۤ
اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعْبُدْنِیْ وَاَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكْرِیْ.
নিশ্চয় আমি তোমার
প্রতিপালক। সুতরাং তোমার জুতা খুলে ফেল। কেননা তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায়
রয়েছ। আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি। সুতরাং ওহীর মাধ্যমে তোমাকে যা বলা হচ্ছে তা
মনোযোগ দিয়ে শোন। নিশ্চয় আমিই আল্লাহ। আমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। সুতরাং আমারই
ইবাদত কর এবং আমার স্মরণের জন্য নামায কায়েম কর।-সূরা ত্বহা (২০) : ১২-১৪
আয়াতের শৈলী থেকে
বোঝা যায়, এখানেই
মূসা আলাইহিস সালামকে নবুওত দান করা হয়। তো নবুওতের সূচনাতেই তাঁকে একমাত্র
আল্লাহর ইবাদত ও নামায কায়েমের আদেশ করা হয়েছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, নামায
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বোত্তম ইবাদত। আয়াতটি থেকে আরো বোঝা যায়, নামাযের
প্রাণ হচ্ছে আল্লাহর যিকির ও স্মরণ। হাঁ, নামায
আগাগোড়া আল্লাহর যিকির১ এবং এতে যিকির পরিপন্থী কিছু করা নিষেধ। এটা
নামাযের অনন্য বৈশিষ্ট্য। নামায ছাড়া অন্য কোনো বিধান এমন নেই, যা
আদ্যোপান্ত আল্লাহর যিকির এবং যেখানে যিকির পরিপন্থী কিছু করা নিষেধ। শুধু তাই নয়; নামাযে
রয়েছে বিভিন্ন অবস্থার যিকির- দাঁড়িয়ে যিকির, বসে
যিকির, মাথা
ঝুঁকিয়ে যিকির, মাটিতে
লুটিয়ে যিকির। আল্লাহর বড়ত্বের যিকির, গৌরবের
যিকির, পবিত্রতার
যিকির, হামদ
ও ছানার যিকির, প্রার্থনা
ও নিবেদনের যিকির...।
আমাদের উচিত
যিকিরপূর্ণ এ ইবাদতটি মহব্বত ও মনোযোগের সাথে আদায় করা; অলসতা
ও উদাসীনতার সাথে নয়। যিকিরের সঙ্গে কি উদাসীনতা মানায়?
আল্লাহ আরো ইরশাদ
করেন-
وَاَوْحَیْنَاۤ
اِلٰی مُوْسٰی وَاَخِیْهِ اَنْ تَبَوَّاٰ لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُیُوْتًا
وَّاجْعَلُوْا بُیُوْتَكُمْ قِبْلَةً وَّاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَبَشِّرِ
الْمُؤْمِنِیْنَ.
আমি মূসা ও তার
ভাইয়ের প্রতি ওহী প্রেরণ করলাম যে, তোমরা
তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য মিসরে ঘর-বাড়ি কর এবং তোমাদের ঘরসমূহকে নামাযের স্থান
বানাও এবং নামায কায়েম কর আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।-সূরা ইউনুস (১০) : ৮৭
এখান থেকে জানা গেল, মূসা
আ. ও হারূন আ.-সহ তাঁদের গোটা সম্প্রদায়ের প্রতি নামাযের নির্দেশ ছিল। আয়াতটি আরো
নির্দেশ করে, প্রতিকূল
পরিস্থিতিতেও নামায আদায় করতে হবে। নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য
আসবে। প্রতিকূলতা দূর হবে।
কতিপয় তাফসীরকার
লিখেছেন, এখানে
মূসা আ. ও হারূন আ.-কে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এটা তখনকার কথা যখন বনী ইসরাঈলের
উপর ফেরাউনের জুলুম-অত্যাচার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল এবং ইবাদতখানায় নামায আদায়ে
তাদের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তখন তাদেরকে নামায তরক না করে ঘরেই আদায়ের
নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী
নবীদের উপর যখন নামাযের বিধান ছিল তো তাঁদের উম্মতেরা অবশ্যই এর আওতাভুক্ত ছিল।
বিশেষত সুপ্রসিদ্ধ সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলকে নামাযের বিধান দেওয়ার বিষয়টি কুরআন
সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
যেমন আল্লাহ ইরশাদ
করেন-
وَلَقَدْ اَخَذَ
اللهُ مِیْثَاقَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَیْ عَشَرَ
نَقِیْبًا وَقَالَ اللهُ اِنِّیْ مَعَكُمْ لَىِٕنْ اَقَمْتُمُ الصَّلٰوةَ
وَاٰتَیْتُمُ الزَّكٰوةَ وَاٰمَنْتُمْ بِرُسُلِیْ وَعَزَّرْتُمُوْهُمْ
وَاَقْرَضْتُمُ اللهَ قَرْضًا حَسَنًا لَّاُكَفِّرَنَّ عَنْكُمْ سَیِّاٰتِكُمْ
وَلَاُدْخِلَنَّكُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ فَمَنْ كَفَرَ
بَعْدَ ذٰلِكَ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ السَّبِیْلِ.
নিশ্চয় আল্লাহ বনী
ইসরাঈল থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্য থেকে আমি বারজন নেতা নির্ধারিত
করেছিলাম। আর আল্লাহ বলেছিলেন, নিশ্চয়
আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, যদি
তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত
আদায় কর, আমার
রাসূলদের প্রতি ঈমান আন, তাদের
সম্মান কর এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান কর, তবে
অবশ্যই আমি তোমাদের পাপসমূহ মোচন করব এবং তোমাদেরকে এমন উদ্যানসমূহে প্রবেশ করাব, যার
তলদেশে নহর প্রবাহিত। আর এর পরও তোমাদের মধ্যে যে কুফর অবলম্বন করবে, নিশ্চয়
সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে।-সূরা মায়েদা (৫) : ১২
এ আয়াত থেকে
পরিষ্কার যে, বনী
ইসরাঈলের উপর নামাযের বিধান ছিল। সেইসঙ্গে এটাও জানা গেল যে, নামাযসহ
উপরিউক্ত আমলগুলো করলে আল্লাহর সঙ্গ লাভ হবে। গোনাহ মাফ করা হবে এবং জান্নাত দান
করা হবে।
বনী ইসরাঈলকে
নামাযের আদেশ করা সম্পর্কিত আরো আয়াতের জন্য দেখুন, সূরা
বাকারা ৮৩; সূরা
বাইয়িনা ৫
নামায
মুমিনদের বৈশিষ্ট্য
একমাত্র মুমিনই
আল্লাহর কাছে মর্যাদাশীল। আর কুরআনে বহু জায়গায় মুমিনদের একটি গুণ এই উল্লেখ করা
হয়েছে যে, তারা
নামায কায়েম করে। এর মধ্য দিয়ে আল্লাহ বস্তুত নামাযের উপর গুরুত্বারোপ করছেন যে, যদি
মুমিন হও তাহলে নামায কায়েম কর।
যেমন আল্লাহ ইরশাদ
করেন-
اِنَّمَا وَلِیُّكُمُ
اللهُ وَرَسُوْلُهٗ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوا الَّذِیْنَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ
وَیُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَهُمْ رٰكِعُوْنَ.
তোমাদের বন্ধু তো
কেবল আল্লাহ, তাঁর
রাসূল ও মুমিনগণ, যারা
সালাত কায়েম করে, যাকাত
আদায় করে এবং তারা বিনয়ী।-সূরা মায়েদা (৫) : ৫৫
এখানে মুমিনদের
বন্ধু কারা এ প্রসঙ্গে কেবল তিন শ্রেণির কথা উল্লেখ করা হয়েছে : ক. আল্লাহ। খ.
রাসূল। গ. মুমিনগণ। তারপর এই মুমিনদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই
বলা হয়েছে তারা নামায কায়েম করে।
আল্লাহ আরো বলেন-
طٰسٓ تِلْكَ اٰیٰتُ
الْقُرْاٰنِ وَكِتَابٍ مُّبِیْنٍ هُدًی وَّبُشْرٰی لِلْمُؤْمِنِیْنَ الَّذِیْنَ
یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَیُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَهُمْ بِالْاٰخِرَةِ هُمْ
یُوْقِنُوْنَ .
ত্ব-সীন। এ কুরআন ও
সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত; মুমিনদের
জন্য হেদায়েত ও সুসংবাদ- যারা নামায কায়েম করে, যাকাত
আদায় করে এবং তারা আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।-সূরা নামল (২৭) : ১-৩
এ আয়াতেও মুমিনদের
পরিচয় দিতে গিয়ে প্রথমে নামাযের কথা বলা হয়েছে।
আল্লাহ অন্যত্র
বলেছেন-
اِنَّمَا
الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ اِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَاِذَا
تُلِیَتْ عَلَیْهِمْ اٰیٰتُهٗ زَادَتْهُمْ اِیْمَانًا وَّعَلٰی رَبِّهِمْ
یَتَوَكَّلُوْنَ الَّذِیْنَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ
یُنْفِقُوْنَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجٰتٌ عِنْدَ
رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِیْمٌ.
মুমিন তো তারাই, (যাদের সামনে)
আল্লাহকে স্মরণ করা হলে তাদের হৃদয় ভীত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পড়া
হয়, তখন তা তাদের ঈমান
বাড়িয়ে দেয় এবং তারা তাদের রবেরই উপর ভরসা করে। যারা নামায কায়েম করে এবং আমি
তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।
তারাই সত্যিকার মুমিন। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে বহু মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক
রিযিক।-সূরা আনফাল (৮) : ২-৪
এখানে সত্যিকার
মুমিনদের গুণাবলি কী তা আলোচনা করা হয়েছে। তাদের একটি গুণ হল তারা নামায কায়েম করে। এ থেকে
বোঝা গেল সত্যিকার মুমিন হতে হলে নামায আদায় করতে হবে। নামায ছাড়া সত্যিকার মুমিন
হওয়া যাবে না।
আল্লাহ আরো ইরশাদ
করেন-
قَدْ اَفْلَحَ
الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَ وَالَّذِیْنَ
هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَ وَالَّذِیْنَ هُمْ لِلزَّكٰوةِ فٰعِلُوْنَ
وَالَّذِیْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حٰفِظُوْنَ اِلَّا عَلٰۤی اَزْوَاجِهِمْ اَوْ
مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ فَاِنَّهُمْ غَیْرُ مَلُوْمِیْنَ فَمَنِ ابْتَغٰی
وَرَآءَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْعٰدُوْنَ وَالَّذِیْنَ هُمْ لِاَمٰنٰتِهِمْ
وَعَهْدِهِمْ رٰعُوْنَ وَالَّذِیْنَ هُمْ عَلٰی صَلَوٰتِهِمْ یُحَافِظُوْنَ
اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْوٰرِثُوْنَ الَّذِیْنَ یَرِثُوْنَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِیْهَا
خٰلِدُوْنَ.
নিশ্চয় সফলকাম হয়েছে
মুমিনগণ- যারা তাদের নামাযে
বিনীত, যারা
অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে, যারা
যাকাত আদায়কারী, যারা
নিজ লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, তবে
নিজেদের স্ত্রী বা মালিকানাধীন দাসীদের থেকে নয়, কেননা
(এতে) তারা নিন্দনীয় হবে না। আর যারা এ ছাড়া (অন্য পথ) অন্বেষণ করে তারাই
সীমালঙ্ঘনকারী এবং যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং যারা নিজেদের
নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান থাকে। তারাই উত্তরাধিকার লাভকারী, যারা
জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।-সূরা মুমিনুন
(২৩) : ১-১১
এ আয়াতে সফল
মুমিনদের গুণাবলি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তাদের একটি গুণ হল তারা তাদের
নামাযে বিনীত (خٰشِعُوْنَ)।
এ শব্দটি خُشُوْع থেকে নির্গত। خُشُوْع শব্দের অর্থ হচ্ছে বিনয়। কখনো ভয়, প্রশান্তি
ও স্থিরতার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আসলে এ বিষয়গুলো কাছাকাছি।
خُشُوْع কুরআনে একাধিক স্থানে অন্তরের বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।
কোথাও কোথাও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিশেষণরূপেও ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু উপরিউক্ত আয়াতে
সাধারণভাবে বলা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, সফল
মুমিন তারা, যারা
নামাযে পরিপূর্ণরূপে বিনীত, আন্তরিকভাবেও
এবং শারীরিকভাবেও। তাদের বিনয় অন্তর-জগৎকে ছাড়িয়ে দেহ-জগৎকে প্লাবিত করে। তাদের
বিনয় ভেতর থেকে পরিস্ফুট হয়ে বহিরঙ্গকে আলোকিত করে।
বিনয় মানে কী আমরা
সবাই জানি- নিজেকে ছোট মনে করা।
তো বিনয়ের সঙ্গে নামায পড়ার অর্থ হল নিজেকে ছোট, দুর্বল, অসহায়
ও মুখাপেক্ষী মনে করে আর আল্লাহকে সবচেয়ে বড় মনে করে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা-ভক্তি ও
ভালোবাসার সঙ্গে তাঁর সম্মুখে নিজের বন্দেগী নিবেদন করা। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর
জন্য দেহমনের উপস্থিতির বিকল্প নেই।
এই খুশূ-ই হচ্ছে
নামাযের রূহ। আসলে খুশূ মুমিনের সবসময়কার অবস্থা। এখানে বিশেষভাবে নামাযের কথা বলা
হয়েছে এজন্য যে, নামায
হচ্ছে খুশূর প্রকাশের সর্বোত্তম জায়গা।
সফল মুমিনদের
দ্বিতীয় গুণ হল তারা তাদের নামাযমূহের প্রতি যত্নবান থাকে। এই যত্নের মধ্যে সময়মত
নামায পড়া, নিয়মিত
নামায পড়া এবং নিয়মনীতি, হক
ও আদবসমূহ লক্ষ করে নামায পড়া সবই শামিল।
অপর সূরায় আল্লাহ
নামাযীদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেছেন-
الَّذِیْنَ هُمْ
عَلٰی صَلَاتِهِمْ دَآىِٕمُوْنَ وَالَّذِیْنَ فِیْۤ اَمْوَالِهِمْ حَقٌّ
مَّعْلُوْمٌ لِّلسَّآىِٕلِ وَالْمَحْرُوْمِ وَالَّذِیْنَ یُصَدِّقُوْنَ بِیَوْمِ
الدِّیْنِ وَالَّذِیْنَ هُمْ مِّنْ عَذَابِ رَبِّهِمْ مُّشْفِقُوْنَ اِنَّ
عَذَابَ رَبِّهِمْ غَیْرُ مَاْمُوْنٍ وَالَّذِیْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حٰفِظُوْنَ
اِلَّا عَلٰۤی اَزْوَاجِهِمْ اَوْ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ فَاِنَّهُمْ غَیْرُ
مَلُوْمِیْنَ فَمَنِ ابْتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْعٰدُوْنَ
وَالَّذِیْنَ هُمْ لِاَمٰنٰتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رٰعُوْنَ وَالَّذِیْنَ هُمْ
بِشَهٰدٰتِهِمْ قَآىِٕمُوْنَ وَالَّذِیْنَ هُمْ عَلٰی صَلَاتِهِمْ یُحَافِظُوْنَ
اُولٰٓىِٕكَ فِیْ جَنّٰتٍ مُّكْرَمُوْنَ .
যারা তাদের নামায
আদায় করে নিয়মিত। এবং যাদের সম্পদে আছে নির্ধারিত হক, যাচক
ও বঞ্চিতের জন্য। এবং যারা বিচার দিবসে বিশ্বাস রাখে এবং যারা তাদের রবের শাস্তি
সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত। নিশ্চয় তাদের রবের শাস্তি এমন নয় যে, তা
থেকে নির্ভয় থাকা যায়। এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, তাদের
স্ত্রী বা তাদের মালিকানাভুক্ত দাসীদের ছাড়া। কেননা (এ ক্ষেত্রে) তারা নিন্দনীয়
নয়। আর যারা এ ছাড়া (অন্য পথ) অন্বেষণ করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। এবং যারা তাদের আমানত ও
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং যারা আপন সাক্ষ্য যথাযথভাবে প্রদান করে। এবং যারা তাদের
নামাযের প্রতি যত্নবান থাকে। তারা জান্নাতে থাকবে সম্মানজনকভাবে।-সূরা মাআরিজ (৭০)
: ২৩-৩৫
এখান থেকে আমরা
প্রকৃত নামাযীর পরিচয় জানতে পারলাম। প্রকৃত নামাযী হচ্ছে যার মধ্যে উপরিউক্ত
গুণাবলি বিরাজমান থাকে, যেগুলোর
শীর্ষে রয়েছে নিয়মিত নামায পড়া এবং যত্নের সাথে নামায পড়া।২
মজার ব্যাপার এই যে, সূরা মুমিনুনে উল্লেখিত সফল মুমিনের সাতটি গুণের মধ্যে দুটি গুণই হচ্ছে নামায সম্পর্কিত। এমনিভাবে সূরা মাআরিজে উল্লেখিত নামাযীর নয়টি গুণের মধ্যে দুটি গুণই হচ্ছে নামায সংক্রান্ত এবং উভয় সূরায় গুণগুলোর আলোচনা শুরু হয়েছে নামায দিয়ে এবং শেষও হয়েছে নামায দিয়েই। এ থেকে অনুমেয়, নামায কত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঈমানের সাথে এর কী গভীর সম্পর্ক!
আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url